উমরাহ গাইডলাইন - ওমরাহ পালনে করণীয় ও বর্জনীয়

উমরাহ একটি মহান ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আধ্যাত্মিক যাত্রা। এটি এমন এক সুযোগ যা সারা বিশ্বের মুসলমানদের একত্রিত করে আল্লাহ তা’আলার ঘর কা‘বা শরীফে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে তাওহীদের মর্ম উপলব্ধি করায়। উমরাহ মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে টেনে আনে, গুনাহ মোচনের পথ খুলে দেয় এবং জীবনের প্রতিটি দিককে নতুনভাবে পরিশুদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জাগায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما”
“এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ পর্যন্ত যে সময়ের মধ্যে গুনাহ হয়, উমরাহ তা মোচন করে।”
(সহিহ বুখারি 1773, মুসলিম 1349)

অতএব, উমরাহ শুধু একটি ভ্রমণ নয়— বরং এটি ‌ঈমান, তাওহীদ ও তাকওয়ার এক গভীর অনুশীলন। উমরাহর প্রতিটি ধাপে রয়েছে নবী ﷺ এর শিক্ষা, সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ।

এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে— উমরাহ পালনের পূর্ণ গাইডলাইন, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো— যাতে আপনার ইবাদত বিশুদ্ধ ও সুন্নাহ সম্মত হয়, এবং কোনো বিদআত বা অশুদ্ধ কাজ না ঘটে।

বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন হজ্জ ও উমরাহ সেবার জন্য ফ্লাইরিহলাহ এভিয়েশন আপনার পাশে আছে। আমরা ভিসা প্রসেসিং, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও পূর্ণ ওমরাহ প্রশিক্ষণসহ সবকিছু এক ছাদের নিচে সেবা প্রদান করি।

📞 এখনই যোগাযোগ করুন: 0339-515261
ফ্লাইরিহলাহ এভিয়েশনের সঙ্গে আপনার উমরাহ যাত্রাকে করুন সহজ, সুন্দর ও স্মরণীয় ইনশাআল্লাহ।

স্টেপ বাই স্টেপ উমরাহ গাইডলাইন

উমরাহ পালনের মাধ্যমে মুমিনরা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় সম্পন্ন করেন। উমরাহ পালন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া আছে। এখানে ধারাবাহিকভাবে সে প্রক্রিয়াগুলো উল্লেখ করা হল:

নিয়ত ও ইখলাস ঠিক করা

উমরাহ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে। মানুষ দেখানোর জন্য নয়।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
“وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين”
অর্থ: “তাদেরকে শুধু এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করবে।”
(সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫)

০১. ইহরাম (ফরজ)

উমরাহ পালন করার জন্য ইহরাম অপরিহার্য। ইহরামের পোশাক পরার জন্য কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়:

ইহরাম বাঁধার পূর্ব প্রস্তুতি ও নিয়ম

  • প্রথমে ক্ষৌরকর্ম (বগল/নাভির নিচের চুল) পরিষ্কার করুন এবং নখ কাটুন। মাথার চুল আগের মতোই রাখা উত্তম — ইহরামের পূর্বে সাধারণভাবে চুল কাটা বা মুন্ডন করার কোনো বর্ণনা নেই।

  • প্রয়োজন হলে সার-সাবান দিয়ে গোসল করুন; যদি গোসল না হয় তো ওজু যথেষ্ট। তায়াম্মুম করার দরকার নেই যদি ওয়ুজু/গোসল করা না যায়।

  • গোসল/ওজু শেষে শরীর, মাথা ও দাড়িতে সুগন্ধি মাখুন (ইহরামের কাপড়ে নয়)।

  • স্বাভাবিক কাপড় পরে ইহরামের কাপড় আলাদা ব্যাগে রেখে ফ্লাইটের সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে গাড়িতে ওঠার আগে বা মীকাতে পৌঁছার আগেই ইহরাম পরুন।

  • যদি ইহরাম পরার সময় ফরজ নামাজের সময় হয়ে থাকে—ইহরাম পরে ফরজ নামাজ আদায় করুন। ফরজ সময় না হলে ২ রাকাত তাহিয়্যাতুল ওজু পড়া মুস্তাহাব।

  • নিয়ত: মীকাতে (বা মীকাতের ঘোষণা হলে) মনে ও মুখে উমরাহর নিয়ত করুন: لَبَّيْكَ عُمْرَةً (মনে বলুন) এবং এরপর পুরো তালবিয়া পড়ুন:
    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لّبَّيْكْ ، لَبَّيْكّ لا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكْ ، إِنَّ الْحَمْدّ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكْ، لا شَرِيْكَ لَكْ
    (যদি মাথায় টুপি থাকে, নিয়ত করার আগে খুলে ফেলুন)। 

    বাংলা উচ্চারণ:
    লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নি‘মাতা লাকা ওয়াল্‌মুল্ক,লা শারীকা লাক।

     

    অর্থ:
    “হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরীক নেই—আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, অনুগ্রহ ও রাজত্ব আপনারই।
    আপনার কোনো শরীক নেই।”

  • বিমানে নিয়ত না করে উঠলে তালবিয়া করা প্রয়োজন নেই; মীকাতের ঘোষণা হলেও তখন নিয়ত ও তালবিয়া শুরু করবেন।

  • ইহরাম-বদ্ধ অবস্থায় প্রচুর তালবিয়া ও যিকর করবেন এবং ইহরামের সময়ে নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে দূরে থাকবেন।

এহরাম অবস্থায় করণীয়:

এহরাম বাঁধার পর আল্লাহর মহিমা ও রহমত স্মরণে রাখুন। বেশি বেশি দো‘আ, দরুদ ও তালবিয়া পড়ুন—বিশেষ করে উঁচু-নিচু জায়গায় ওঠানামার সময়, বসা-উঠার সময় ও সফরের মুহূর্তে।
কুরআন তিলাওয়াত করুন, হক্কানি আলেমদের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং হজ-উমরাহ বিষয়ক সহিহ বই পড়ুন।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় করুন; বিমানে হলে সময়মতো একাকী সালাত আদায় করুন, প্রয়োজনে তায়াম্মুম করুন।
এহরামের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, তাওবা-ইস্তেগফারে সময় কাটান এবং অন্য হাজিদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন।


বি: দ্র: বর্তমানে দেখা যায় যে হাজি সাহেবদের মধ্যে একজন প্রথমে তালবিয়ার কিছু শব্দ উচ্চারণ করেন, পরে অন্যান্য হাজিগণ তাকে অনুসরণ করে সমস্বরে তালবিয়া পড়েন। এভাবে একবার তালবিয়া শেষ হলে আবার শুরু করেন। এরূপ করা সুন্নতের বিপরীত। তালবিয়া পাঠের সময় সুন্নত তরিকা হল প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা তালবিয়া পাঠ করবে। হাঁ যদি তালবিয়া শেখানোর প্রয়োজনে সাময়িকভাবে তালকিন করা হয়, তবে তার অনুমতি রয়েছে।

০২. তাওয়াফ (ফরজ)

উমরাহ ওমরাহ পালনের জন্য তাওয়াফ করা আবশ্যক। তাওয়াফ করার প্রস্তুতি হিসেবে যে কাজগুলো করতে হয়:

তালবিয়া পড়তে পড়তে বিনম্র হৃদয়ে পবিত্র কাবার দিকে রওনা হোন। মসজিদুল হারামের সুবিশাল দালানসমূহ মনে হবে আপনাকে  স্বাগত জানাবে। উমরা গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। তবে প্রবেশের সময় ডান পা আগে রাখবেন এবং রহমতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার দো‘আ পড়বেন—

بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلى رَسُوْلِ اللهِ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذُنُوْبِيْ، وَافْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ ওয়াস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাগফির লি যুনুবি ওয়াফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিক্।

অর্থ: আললাহর নামে আরম্ভ করছি। সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ ()এর ওপর। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের সকল দরজা উন্মুক্ত করে দিন।

এরপর আপনার কাজ হবে তাওয়াফ শুরু করা। বায়তুল্লাহ শরীফ দেখামাত্র দু’হাত উঠানোর ব্যাপারে যে একটি কথা আছে তা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে বায়তুল্লাহ শরীফ দৃষ্টির আওতায় এলে দোয়া করার অনুমতি রয়েছে।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কাবা দেখলে বলতেন—  اللّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ، فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلامِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি শান্তি, শান্তি আপনারই কাছ থেকে আসে। আমাদেরকে শান্তির সাথে জীবন দিন।

তাওয়াফের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: সুন্নাহ সম্মতভাবে তাওয়াফ সম্পন্ন করার জন্য নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখুন—

✅  সম্পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করবেন।
✅ মনে মনে নিয়ত করবেন; মুখে নিয়ত পাঠের প্রয়োজন নেই।
✅  সতর আবৃত থাকবে।
✅ হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু ও শেষ করবেন।
✅ হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতে পারলে করবেন; না পারলে ডান হাত তুলে বলবেন: بِسْمِ اللهِ، اللهُ أَكْبَرُ
(বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার)।
✅  হাতিমের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করবেন।
✅  হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি ছাড়া কাবার অন্য অংশ স্পর্শ করবেন না।
✅  পুরুষরা যতটা সম্ভব কাবার কাছ দিয়ে তাওয়াফ করবেন, নারীরা কিছুটা দূরে।
✅  তাওয়াফে খুশু ও বিনয় বজায় রাখবেন; অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলবেন।
✅  রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে এই দো‘আ পড়বেন— رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

✅  সাত চক্কর সম্পূর্ণ করবেন।
✅  নারীদের স্পর্শ থেকে বিরত থাকবেন।
✅  তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে দু’ রাকআত সালাত আদায় করবেন; জায়গা না পেলে অন্য কোথাও আদায় করবেন।
✅  সালাত শেষে যমযমের পানি পান করবেন (তবে অবশ্যই ঠান্ডা পানি এড়িয়ে যাবেন এবং মাথায় ঢালবেন (যদি ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে তবে সামান্য পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করা যেতে পারে), যা বরকতময় আমল।

০৩. সায়ি (ওয়াজিব)

সাঈ করার সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা

  • সাঈর নিয়ত করুন।

  • হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম (স্পর্শ) করে সাফার দিকে রওনা হোন। (বর্তমান প্রচন্ড ভীড়ের কারনে সেটা সম্বভ না।

  • ওজু অবস্থায় সাঈ করা।

  • তাওয়াফ শেষে বিলম্ব না করে সাঈ শুরু করুন।

  • সাফায় উঠে কেবলামুখী হয়ে দু’হাত তুলে দীর্ঘ দো‘আ করুন।

  • পুরুষরা সবুজ বাতির মাঝের অংশে হালকা দৌড় দেবেন।
    সেই স্থানে পড়ুন—
    رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الأَعَزُّ الأَكْرَمُ
    অর্থ: হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী ও দয়ালু।

  • সাত চক্কর পূর্ণ করুন (সাফা থেকে মারওয়া এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফা আরেক চক্কর)।

  • নির্দিষ্ট মাসআ এলাকায়ই সাঈ করবেন, বাইরে হলে সাঈ হবে না।

  • দুই চক্করের মাঝে অযথা বিলম্ব করবেন না।

🔹 এসব নিয়ম মেনে চললে আপনার সাঈ ইনশাআল্লাহ সহিহ ও পূর্ণাঙ্গ হবে।

সাঈ করতে যাচ্ছেন এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করুন। সাঈর পূর্বে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন-স্পর্শ করুন। চুম্বন-স্পর্শ সম্ভব না হলে, এ ক্ষেত্রে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করার কোনো বিধান নেই। এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে আগান। সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হলে, রাসূলুল্লাহ (স) এর অনুসরণে বলুন—

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ، أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ.

উচ্চারণ: ইন্নাস্সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ। আব্দায়ু বিমা বাদায়াল্লাহু বিহি

অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। আমি শুরু করছি আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন।

এরপর সাফা পাহাড়ে ওঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দাঁড়াবেন এবং আল্লাহর একত্ববাদ, বড়ত্ব ও প্রশংসার ঘোষণা দিয়ে বলবে—

اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ اْلَحمْدُ وَهَوُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لَا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু লাহুল্মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ইউহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাছারা আব্দাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ্।

অর্থ: আল্লাহ সুমহান, আল্লাহ সুমহান, আল্লাহ সুমহান ![3] আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, এবং আল্লাহ মহান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, ও সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রুদেরকে পরাজিত করেছেন। এবং উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করবে। উপরোক্ত দোয়া এবং ইহ-পরকালের জন্য কল্যাণকর অন্যান্য দোয়া সামর্থ্য অনুযায়ী তিন বার পড়বে। পদ্ধতি এমন হবে যে, উক্ত দোয়াটি একবার পাঠ করে তার সাথে সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যান্য দোয়া পড়বে। অত:পর পুনরায় উক্ত দোয়াটি পাঠ করবে এবং তার সাথে অন্যান্য দোয়া পাঠ করবে। এভাবে তিন বার করবে।

দোয়া শেষ হলে মারওয়ার দিকে রওয়ানা হোন। যেসব দোয়া আপনার মনে আসে পড়ুন। সাফা থেকে নেমে কিছু দূর এগোলেই ওপরে ও ডানে-বামে সবুজ বাতি জ্বালানো দেখবেন। এই জায়গাটুকু, পুরুষ হাজিগণ, দৌড়ানোর মত করে দ্রুত গতিতে হেঁটে চলুন। পরবর্তী সবুজ বাতির আলামত এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় চলার গতি থাকবে স্বাভাবিক। সবুজ দুই আলামতের মাঝে চলার সময় নীচের দোয়াটি পড়ুন-

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ ، إِنَّكَ أَنْت َالأَعَزُّ الأَكْرَمُ.

উচ্চারণ: রাবিবগ্ফির্ ওয়ার্হাম্, ইন্নাকা আন্তাল্ আয়া’য্যুল আকরাম্

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সমধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।

মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছার পূর্বে, সাফায় পৌঁছার পূর্বে যে আয়াতটি পড়েছিলেন, তা পড়তে হবে না। মারওয়ায় উঠে সাফার মতো পবিত্র কাবার দিকে মুখ করে একই কায়দায় হাত উঠিয়ে মোনাজাত করুন। মারওয়া থেকে সাফায় আসার পথে সবুজ বাতির এখান থেকে আবার দ্রুত গতিতে চলুন। দ্বিতীয় সবুজ আলামতের এখানে এলে চলার গতি স্বাভাবিক করুন। সাফায় এসে কাবা শরীফের দিকে মুখ করে আবার মোনাজাত ধরুন। সাফা মারওয়া উভয়টা দোয়া কবুলের জায়গা। কাজেই তাড়াতাড়ি সাঈ সেরে নিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার চিন্তা করবেন না। ধীরে সুস্থে রাসূলুল্লাহ ()যেখানে যা করেছেন সেখানে সেটা সেভাবেই করার চেষ্টা করুন। কতটুকু করলে ফরজ আদায় হয়ে যাবে, এই চিন্তা মাথায় আনবেন না। বরং এটা টারগেট বানাবেন যে রাসূলুল্লাহ ()কোথায় কোন কাজ কীভাবে ও কত সময় করেছেন, আমিও ঠিক সেভাবেই করব।

একই নিয়মে সাঈর বাকি চক্করগুলোও আদায় করুন। সাঈ করার সময় সালাত দাঁড়িয়ে গেলে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করুন। সাঈ করার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে আরাম করে নিন। এতে সাঈর কোনো ক্ষতি হবে না।

আপনার শেষ সাঈ—অর্থাৎ সপ্তম সাঈ—মারওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। শেষ হওয়ার পর মাথা মুন্ডন বা চুল খাটো করতে যাবেন। মারওয়ার পাশেই চুল কাটার সেলুন রয়েছে। সেখানে গিয়ে মাথা মুন্ডন অথবা চুল ছোট করে নিন। যদি হজ্জের জন্য মাথা মুন্ডানোর সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ জিলহজ্জ এর পূর্বে আপনার মাথার চুল গজাবে না এরূপ আশঙ্কা হয় তবে উমরার পর চুল ছোট করা উত্তম। বিদায় হজ্জের সময় তামাত্তুকারী সাহাবাগণ কসর – চুল ছোট-করেছিলেন। কেননা তাঁরা হজ্জের পাঁচ দিন পূর্বে উমরা আদায় করেছিলেন। তবে অন্যসব ক্ষেত্রে মাথা মুন্ডন করা উত্তম।

মনে করিয়ে দেয়া ভাল যে, পবিত্র কুরআনে ‘হলক’ এবং’কসর’ এর কথা এসেছে। মাথার চুল গোড়া থেকে কেটে ফেলাকে হলক বলে আর ছোট করাকে বলে কসর। কারও কারও মতে এক আঙুল চুল ছেঁটে ফেলাকে কসর বলে। তাই মাথায় যদি একেবারেই চুল না থাকে তাহলে সত্যিকার অর্থে হলক ও কসর কোনোটাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। মুন্ডিত মাথায় নতুন করে ক্ষুর চালালে এটাকে কেউ মাথা মুন্ডন বলে না, বরং এটা হবে تمرير الموسى  (ক্ষুর সঞ্চালন) যা কেবল টাক-মাথা ওয়ালাদের জন্য প্রযোজ্য।

মাথা মুন্ডন বা চুল ছোট করার পর গোসল করে স্বাভাবিক সেলাই করা কাপড় পরে নেবেন।
(এটা হজ্জের সময় হাজীদের জন্য প্রযোজ্য)
৮ জিলহজ্জ পর্যন্ত হালাল অবস্থায় থাকবেন। এহরাম বাঁধতে হবে না। এখন আপনার কাজ হবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করা, ও হজ্জের ব্যাপারে পড়াশোনা করে খুব সুন্দরভাবে বড় হজ্জের জন্য প্রস্ত্ততি নেয়া। সাধ্য-মত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা।

০৪. চুল মুন্ডন করা (ওয়াজিব)

চুল মুন্ডন করা (ওয়াজিব)। উমরাহ পালনে এটি অবশ্যই করণীয়। পুরুষের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ অনুসরণে সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করা। তবে কেউ চাইলে মাথার চুল ছাঁটতেও পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে চুল এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে ফেলা।

উমরাহ পালনে করণীয় ও বর্জনীয়

উমরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি পালনের সময় কিছু কাজকে গুরুত্ব দিতে হয় এবং কিছু কাজ বর্জন করতে হয়। এখানে উমরাহ পালনের করণীয় ও বর্জনীয়গুলো তুলে ধরা হল:

উমরাহ পালনে করণীয়:

উমরাহ পালনে বর্জনীয়:

নোট: ইহরাম অবস্থায় এ কাজগুলো করা যাবে না। ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার পর ঝগড়া, গালাগালি ও খারাপ কথা বলা ছাড়া উপরের সব কাজ করা যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ওমরাহ পালনের মূল ধাপগুলো কী কী?
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সের নারীরা গাইডেড গ্রুপের মাধ্যমে ওমরাহ পালন করতে পারেন, তবে মাহরাম ছাড়া একা ওমরাহ করার অনুমতি আগে ছিল না।
যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয় তবে ‘দম’ বা ফিদিয়া দিতে হয়। তবে ভুল অনিচ্ছাকৃত হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে সর্বশেষ তথ্য জানা যাবে।